[gtranslate]
৩রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লা ধর্মসাগর পাড়ে পুলিশকে ছুরিকাঘাত; ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল ঘাতকসহ ২ আসামি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কুমিল্লা নগরীর বিনোদনকেন্দ্র ধর্মসাগর পাড়ে বেড়াতে গিয়ে বখাটেদের হামলার শিকার হয়েছেন এক পুলিশ কনস্টেবল। স্ত্রীর সামনে প্রতিবাদ করায় তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল ঘাতকসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২ এপ্রিল ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় কর্মরত নারী কনস্টেবল জাকিয়া সুলতানা এবং তার স্বামী চাঁদপুর জেলা পুলিশে কর্মরত কনস্টেবল কাজী আব্দুল্লাহ মো. জোবায়ের ব্যক্তিগত সময়ে ধর্মসাগর পাড়ে ঘুরতে যান।

এ সময় সেখানে অবস্থানরত তিন যুবক নারী কনস্টেবল জাকিয়া সুলতানাকে লক্ষ্য করে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে। বিষয়টির প্রতিবাদ করলে কনস্টেবল জোবায়েরের ওপর চড়াও হয় তারা।

একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে গুরুতর জখম করে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

দিবালোকে জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার বিষয়টি কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম-এর নজরে আসামাত্র তিনি জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য কঠোর নির্দেশনা দেন।

পরে তার দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি মডেল থানার একাধিক টিম যৌথভাবে অভিযান শুরু করে।

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, স্থানীয় তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরপর টানা ১২ ঘণ্টার সাঁড়াশি অভিযানে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো: মো. রিফাত (১৯), পিতা: জাহাঙ্গীর আলম, সাং: কালিয়াজুড়ী (মুন্সেফ কোয়ার্টার), থানা: কোতোয়ালি মডেল, কুমিল্লা; এবং সিয়াম (২০), সাং: ভুবনঘর, থানা: কোতোয়ালি মডেল, কুমিল্লা।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম বলেন, “কুমিল্লার কোনো স্থানেই কিশোর গ্যাং বা বখাটেদের অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে অপরাধী যেই হোক, তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”

আরো দেখুন