bn বাংলা
২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলে শ্বাসযোগ্য অক্সিজেন তৈরি করলো নাসার রোভার

বিদেশ ডেস্ক

মঙ্গলগ্রহে শ্বাসযোগ্য অক্সিজেন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার পাঠানো মহাকাশ যান পারসিভেয়ারেন্স রোভার। এ রোভারে যুক্ত থাকা একটি ছোট যন্ত্রের সাহায্যে গ্রহটির কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহার করে তা থেকে অক্সিজেন তৈরি করা হয়েছে। মঙ্গলে নাসার এই দফার অভিযানে এটি দ্বিতীয় প্রযুক্তিগত সাফল্য। এর আগে পারসিভেয়ারেন্স থেকে একটি মিনি হেলিকপ্টার উড়েছিল মঙ্গল গ্রহের ওপর। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডই বেশি, প্রায় ৯৬ শতাংশ। অক্সিজেন আছে মাত্র শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ। আর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আছে ২১ শতাংশ অক্সিজেন।

নাসা জানিয়েছে যে যন্ত্রটি দিয়ে মঙ্গলগ্রহে অক্সিজেন তৈরি করা হয়েছে, সেটি আকারে একটা পাউরুটি স্যাঁকার কাজে ব্যবহৃত টোস্টারের সমান। এটির নাম ‘মার্স অক্সিজেন ইন-সিটু রিসোর্স ইউটিলাইজেশন এক্সপেরিমেন্ট’ বা সংক্ষেপে মোক্সি। মোক্সি নামের যন্ত্রটি মঙ্গলের কার্বন ডাইঅক্সাইডের অণু থেকে অক্সিজেন বের করতে পারে। কার্বন ডাইঅক্সাইডের প্রতিটি অণুতে থাকে কার্বনের একটি এবং অক্সিজেনের দুটি পরমাণু। আর এই অক্সিজেন বের করে নেওয়ার পর যে কার্বন মনোক্সাইড অবশিষ্ট হিসেবে থেকে যায়, তা ছেড়ে দেওয়া হয় মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডলে।

মোক্সি নামক যন্ত্রটি পাঁচ গ্রাম গ্যাস তৈরি করেছে- যা দিয়ে মঙ্গলগ্রহে একজন নভোচারী সর্বোচ্চ দশ মিনিট শ্বাস নিতে পারবেন। নাসার যে টিম মোক্সি যন্ত্রটি চালাচ্ছে, তারা বিভিন্নভাবে এটি পরীক্ষা করে দেখছে কিভাবে সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগানো যায়। তাদের আশা, এটি দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় দশ গ্রাম পর্যন্ত অক্সিজেন উৎপাদন করা যাবে।

তবে নাসা মনে করছে, ভবিষ্যতে মঙ্গলগ্রহে মানুষের অভিযানের সময় যে অক্সিজেনের দরকার হবে তা পৃথিবী থেকে বহন করে নেওয়ার পরিবর্তে এই যন্ত্রটিরই আরও বড় কোন সংস্করণ সাথে নেওয়া যেতে পারে।

আরো দেখুন
error: Content is protected !!