২৫শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় ৩য় শ্রেণী পড়ুয়া শিশু ধর্ষণের পর হত্যা, আসামি গ্রেপ্তার প্রধান আসামি মফিজুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণের গলিয়ারা ইউনিয়নের সোনালী শিশু বিদ্যানিকেতনের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী তানজিম সুলতানা ঝুমুরের ধর্ষক ও হত্যাকারী মফিজুল ইসলাম মফুকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১, ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-২ এর একটি আভিযানিক টিম।

গতকাল (৩০ এপ্রিল) রাতে তাকে চাঁদপুরের শাহরাস্তির ফেরুয়া বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মফিজুল ইসলাম মফু কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

মাদকাসক্ত মফু নিয়মিত গাঁজা সেবনকারী এবং পেশায় রাজমিস্ত্রির যোগালি। গত ২৯ এপ্রিল স্কুল থেকে বাড়িতে যাওয়ার পথে হত্যাকারী মফিজুল ইসলাম মফু শিক্ষার্থী ঝুমুরকে জোরপূর্বক পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

বুধবার (১ মে) সকাল ১১টায় কুমিল্লা নগরীর শাকতলায় র‌্যাব-১১ কুমিল্লা কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব অধিনায়ক তানভীর মাহমুদ পাশা। এর আগে গ্রেপ্তারকৃত আসামি মফুকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে শিশু ঝুমুরকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন র‌্যাব অধিনায়ক তানভীর মাহমুদ পাশা। এ সময় তিনি হত্যাকরীর দেওয়া স্বীকারোক্তি বর্ণনা করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন।

র‌্যাব অধিনায়ক বলেন, ধর্ষণের পর হত্যার শিকার শিশু ঝুমুর কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা উত্তর ইউনিয়নের খিলপাড়া গ্রামের দুবাই প্রবাসী জাকির হোসেনের একমাত্র মেয়ে।

ঘটনার দিন ২৯ এপ্রিল সকালে ঝুমুর স্কুলে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়। কিন্তু বেলা ১১টা পর্যন্ত সে বাড়ি না ফিরলে তার মা স্কুলে যান। সেখানে মেয়ের কোনও সন্ধান না পেয়ে ফেরার পথে ঝুমুরের সহপাঠীর কাছে জানতে পারেন সে স্কুল শেষে বাড়ি চলে গেছে।

বিকেলে বাড়ির পাশে ধানক্ষেতে একটি লাশ পড়ে আছে বলে তিনি জানতে পারেন। সেখানে গিয়ে তিনি তার মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন একই এলাকার মফিজুল ইসলাম মফুকে ঘটনাস্থলের পাশে থাকা বাঁশঝাড়ের ভেতর থেকে দ্রুত রাস্তায় উঠে আসতে দেখেছেন। এ ঘটনায় মামলার খবর জানতে পেরে মফু চাঁদপুরে পালিয়ে যায়।

র‌্যাব অধিনায়ক জানান, মফু ঝুমুরকে আগে থেকেই চিনতো। এই সুযোগে ২৯ এপ্রিল সকালে ঘটনাস্থলের পাশের রাস্তায় ওঁত পেতে থাকে। স্কুলের ছুটি শেষে বাড়ি যাওয়ার পথে ঝুমুর ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছালে মফু তাকে রাস্তার পাশের ধানি জমিতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ঝুমুর চিৎকার করার চেষ্টা করলে মফু তার মুখ ও গলা চেপে ধরে। এতে সে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়।

এদিকে সোনালী শিশু বিদ্যানিকেতনের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী তানজিম সুলতানা ঝুমুরের ধর্ষক ও হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে কুমিল্লা সদর দক্ষিন উপজেলার সাধারন মানুষ।

আরো দেখুন
error: Content is protected !!