২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কবি জুবায়ের জুবিলী’র সাক্ষাৎকার

👁️মহানগর ডেস্ক ✒️
কবি জুবায়ের জুবিলী এর জম্ম বেড়ে ওঠা সিলেটে। বর্তমানে চাকরির সুবাধে তিনি ঢাকায় বসবাস করছেন। অতি সাধারণ একজন মানুষ। তিনি একাধারে লিখে চলেছেন কবিতা, ছড়া, গল্প ও গান।

তবে কবিতাতেই তিনি বেশি নিমগ্ন। নিয়মিতই তাঁর লেখা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। কবি জুবায়ের জুবিলী’র সাথে আলাপচারিতাই ছিলেন মহানগরনিউজ২৪ পত্রিকার সম্পাদক সৈয়দ বদরুদ্দোজা টিপুু।

সাক্ষাৎকার
°°°°°°°

সৈয়দ বদরুদ্দোজা টিপুু
কবি,কেমন আছেন ?
জুবায়ের জুবিলী:
বেশ ভালো আছি।
আপনি কেমন আছেন ?
সৈয়দ বদরুদ্দোজা টিপুুঃ
আলহামদুলিল্লাহ।

আপনার কবিতা লেখার শুরুটা কিভাবে হল?

জুবায়ের জুবিলীঃ আমার লেখালেখির শুরুটা মূলত ছড়া দিয়ে। আমার ছড়া লেখার শুরু হয় আমি যখন সপ্তম শ্রেণীতে পড়ি তখন থেকে। এর পর নবম শ্রেণী থেকে আমার কবিতা লেখার শুরু। পাঠ্যপুস্তকের কবিতা আমাকে খুব টানতো। আমি পড়ার টেবিলে জোরে জোরে আবৃত্তি করতাম। স্কুলের স্যার আমার কবিতা আবৃত্তি পছন্দ করতেন। তাই ক্লাসে আমাকে দিয়েই কবিতা আবৃত্তি করাতেন।

এরপর কলেজে যখন ভর্তি হই তখন থেকেই সিলেটের স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক সিলেটের ডাক, সিলেট বাণী সহ তৎকালীন স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে আমার কবিতা ছাপতে শুরু করে। আমি সময় পেলেই সিলেট পাবলিক লাইব্রেরীতে চলে যেতাম ওখানে যেয়ে বিখ্যাত সব লেখকদের কবিতার বই পড়তে শুরু করি। আসলে আমি তখনই বুঝতে পারি যে,আমি কবিতার প্রেমে পরে গেছি।সৈয়দ বদরুদ্দোজা টিপুঃ আপনার জন্ম এবং জন্মস্থান সম্পর্কে কিছু বলুন?

জুবায়ের জুবিলীঃ আমার জন্ম মুক্তিযুদ্ধের ঠিক আগ মুহূর্তে ২৯ জানুয়ারি ১৯৭১ সালে। সিলেটের সোনার পাড়ায়। মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয় আমার তখন কয়েক মাস বয়স। আমার ফ্যামেলি তখন বাসার পাশেই মাটির নীচে ব্যাংকারে অবস্থান করতেন। তখন তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়।

পাকিস্তানি সৈন্যদের মর্টার সেলের শব্দে ভয়ে আমি কান্না করে উঠতাম। মা ভয়ে মুখ চেপে ধরতেন, না জানি পাকিস্তানিরা শুনতে পায়।

তবে আমাকে নিয়ে উনারা ভয়েই ছিলেন। আমার কান্নার কারনে উনারা বাধ্য হন অত্র এলাকা ছেড়ে কিছুটা নিরাপদ শহরতলী পাঠানটুলায় চলে যেতে। শুনেছি সেখানে ও বেশি দিন থাকতে পারেননি। শান্তিবাহিনীর আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় ওখান থেকে ফিরে এসেছিলেন সোনার পাড়ায়। তবে বাবা গ্রামের পৈতৃক ভিটা বি.বাড়িয়াতে যেতে চেয়ে ও যেতে পারেননি। খবর পেয়েছিলেন ওখানে নাকি আরো ভয়াবহ অবস্থা। সেই যুদ্ধ ঝঞ্জাট সময়ের সন্তান আমি।

সৈয়দ বদরুদ্দোজা টিপুঃ আপনি একজন চাকুরিজীবী পুরোদস্তুর হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, আবার একজন লেখক ও বটে। কিভাবে সম্ভব ?

জুবায়ের জুবিলীঃ দেখুন, একজন পুরুষ কারও ছেলে,কারও ভাই, কারও স্বামী, কারও পিতা ইত্যাদি অর্থাৎ,আচরণ ভেদে তার ভিন্নতা। ঠিক তেমনই আমি পেশাদারিত্বের জায়গায় সম্পূর্ণই একজন পেশাদার মানুষ।

আবার লেখালেখির জগত সম্পূর্ণই একজন লেখক হিসেবে আমার বিচরণ। সব ক্ষেত্রে সঠিক কর্মটি সম্পাদন করতে পারাটাকেই আমি সঠিক জীবনাচরণ মনে করি।

সৈয়দ বদরুদ্দোজা টিপুঃ বাংলা ভাষায় রচিত ও পঠিত কয়টি কবিতা ও রচয়িতার নাম বলুন যেগুলি আপনার ভালোলাগায় এবং কাব্যগুণ বিচারে শ্রেষ্ঠতম।

জুবায়ের জুবিলীঃ কাজী নজরুল ইসলামের “বিদ্রোহী”, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “প্রার্থনা”, জীবনানন্দ দাশের “বনলতা সেন”, জসীমউদ্দীনের “কবর” আল মাহমুদের “সোনালী কাবিন” এবং শামসুর রাহমানের “স্বাধীনতা তুমি”।

সৈয়দ বদরুদ্দোজা টিপুঃ একজন কবি হিসেবে আপনি বাংলা সাহিত্যে কবিতাকে কেমন দেখতে চান ?

জুবায়ের জুবিলীঃ আমি চাই কবিতা হোক তোষামোদি মুক্ত। কবিতা হোক সময় স্বীকার্য। কবিতা হোক জীবনের পরিচ্ছদ। কবিতাতো জীবনের কথাই বলে।

সৈয়দ বদরুদ্দোজা টিপুঃ এ যাবৎ আপনার কয়টি বই প্রকাশ পেয়েছে?

জুবায়ের জুবিলীঃ এ যাবৎ আমার ৩টি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে “ভালোবাসার পঙক্তিমালা” নীলাঞ্জনার কাব্য কথন” এবং নৈঃশব্দের কাব্য (যৌথ কাব্য সংকলন) ইত্যাদি।

সৈয়দ বদরুদ্দোজা টিপুঃ আপনার উল্লেখযোগ্য লেখা কোনটি?

জুবায়ের জুবিলীঃ আসলে কোনটি উল্লেখযোগ্য তা পাঠকই বিচার করবে।

সৈয়দ বদরুদ্দোজা টিপুঃ আপনার পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।

জুবায়ের জুবিলীঃ পাঠকদের উদ্দেশ্য শুধু বলব, আসুন আমরা নিজেকে ভালোবাসার চর্চা করি।

সৈয়দ বদরুদ্দোজা টিপুঃ আপনাকে ধন্যবাদ।

জুবায়ের জুবিলীঃ আপনাকেও ধন্যবাদ। জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল মহানগরনিউজ২৪ পথচলা সুন্দর ও সুগম হোক ৷ সেই সাথে আপনাকে ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

আরো দেখুন
error: Content is protected !!