bn বাংলা
৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু আজ মহাষষ্ঠী

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
নীল-সাদা আকাশ, ভোরের আবছা কুয়াশা, শ্বেতশুভ্র কাশফুলের দোলা, বাতাসে শিউলী ফুলের ঘ্রাণ। শরতের আগমনে প্রকৃতির এ শোভনীয় রূপের মোহনীয় সজ্জার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আজ মহাষষ্ঠী।

মহাষষ্ঠী মানে সপরিবারে উমার পিতৃগৃহে আগমনের দিন। পঞ্চিকার তিথি অনুযায়ী আজ শনিবার (১ অক্টোবর) রাত্রী ৯টা ৬ মিনিটের মধ্যে দেবী দুর্গার মহাষষ্ঠ্যাদি, কল্পারম্ভ এবং ষষ্ঠী বিহীত পূজা সন্ধ্যায় দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে কুমিল্লার ৭৯৩টি পূজা মন্ডপে শুরু হবে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।

ঢাক-ঢোল আর কাঁসার বাদ্যে দেবীর বোধন পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। আজ পবিত্র ষষ্ঠি তিথিতে অশ্বমেথ বৃক্ষের পূজার মাধ্যমে আবাহন করা হবে দেবী দুর্গার।

দুষ্টের বিনাশ ও সৃষ্টের পালন করতে বছর ঘুরে আবারো দুর্গতিনাশিনী দশভুজা ‘মা দুর্গা’ এসেছেন আমাদের মাঝে। তিথি অনুসারে এবার দেবী দুর্গা মর্ত্যলোকে গজে (হাতি) আগমন করবেন। পাঁচদিনের অর্চনা শেষে দোলায় (নৌকা) মর্তলোক থেকে স্বামীগৃহ কৈলাশে ফিরেন যাবেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি পূজা মন্ডপে নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ।

প্রতিটি পূজা মন্ডপে অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে অধিক আনসার, পুলিশের পাশাপাশি টহল থাকবে র‌্যাব ও সাদা পোশাকে থাকবে গোয়েন্দা পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ পূজা মন্ডপগুলোতে থাকবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মোবাইল টিম। এবছর বাধ্যতা মূলক সিসি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে থাকছে প্রতিটি পূজা মন্ডপ।

এর আগে শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সারাদেশের ন্যায় কুমিল্লার ৭৯৩টি পূজা মণ্ডপে দুর্গা দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হয়। শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে এই বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙার জন্য বন্দনা পূজা করা হয়। মণ্ডপে-মন্দিরে পঞ্চমীতে সায়ংকালে তথা সন্ধ্যায় এই বন্দনা পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

পূরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তে তিনি পূজার আয়োজন করায় দেবীর এ পূজাকে বাসন্তী পূজা বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে লংকা যাত্রার আগে শ্রী রামচন্দ্র দেবীর পূজার আয়োজন করেছিলেন শরৎকালের অমাবস্যা তিথিতে, যা শারদীয় দুর্গোৎসব নামে পরিচিত। দেবীর শরৎকালের পূজাকে এজন্যই হিন্দুমতে অকাল বোধনও বলা হয়।

এদিকে, গত বছর ঘটে যাওয়া কুমিল্লার ঘটনাকে ভুলে গিয়ে এবার জাকজমপূর্ণ পরিবেশে আনন্দ ও উৎসবের মধ্য দিয়ে কুমিল্লার প্রতিটি পূজা মন্ডপে শারদীয় উৎসব অনুষ্ঠিত হবে এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান (বিপিএম-বার)।

কুমিল্লা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন বক্সী সকলকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আনন্দ উৎসব ভাগাভাগির পাশাপাশি পূজা মন্ডপে স্ব-স্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পূজা মন্ডপ কমিটির প্রতি অনুরোধ করছি।

প্রশাসন সার্বক্ষনিক আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন কিন্তু কোন ক্রমেই যেন আপনার মন্ডপটি খালি না থাকে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখবেন।

আরো দেখুন
error: Content is protected !!